রাষ্ট্র ও সরকারব্যবস্থা কাকে বলে

রাষ্ট্র ও সরকারব্যবস্থা কাকে বলে

রাষ্ট্র ও সরকারব্যবস্থা কাকে বলে: রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। আর সরকার রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম প্রধান উপাদান। সরকার মূলত রাষ্ট্রের মুখপাত্র হিসেবে দেশ পরিচালনা করে। রাষ্ট্র ও সরকার বিভিন্ন রকম হতে পারে। রাষ্ট্রের সামাজিক ও রাজনৈতিক চাহিদার বিভিন্নতার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে বিভিন্ন ধরনের সরকারব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। এ অধ্যায়ে আমরা বিভিন্ন ধরনের রাষ্ট্র ও সরকারপদ্ধতি সম্পর্কে জানব।

রাষ্ট্র ও সরকারব্যবস্থা কাকে বলে

রাষ্ট্র ও সরকারব্যবস্থা কাকে বলে

রাষ্ট্র ও সরকার 

রাষ্ট্র ও সরকার এ দুটি অনেক সময় সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এ দুটির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য আছে। রাষ্ট্র একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী প্রতিষ্ঠান। এটি সার্বভৌম বা সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী। আর সরকার রাষ্ট্র গঠনের চারটি উপাদানের (জনসংখ্যা, ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব) মধ্যে একটি উপাদান মাত্র। 

পৃথিবীর সব রাষ্ট্র একই উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত হলেও সব রাষ্ট্র ও সরকারব্যবস্থা এক ধরনের নয়। আবার সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে যেকোনাে দেশে রাষ্ট্র ও সরকারের স্বরূপ পরিবর্তিত হতে পারে। রাষ্ট্রের ধরন। বিশ্বে বিভিন্ন ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থা লক্ষ করা যায়। 

অর্থনীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র 

সম্পত্তি বা অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উপর নিয়ন্ত্রণ থাকা না-থাকার ভিত্তিতে রাষ্ট্র দুই ধরনের হয়, যেমন- পুঁজিবাদী রাষ্ট্র ও সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র। 

পুঁজিবাদী রাষ্ট্র

পুঁজিবাদী রাষ্ট্র

পুঁজিবাদী রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকে বােঝায়, যেখানে সম্পত্তির উপর নাগরিকদের ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকার করা হয় । এ সরকারব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ (ভূমি, শ্রম, মূলধন ও ব্যবস্থাপনা) ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকে। 

এর উপর সরকারের কোনাে নিয়ন্ত্রণ থাকে না। অবাধ প্রতিযােগিতার মাধ্যমে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। এ ধরনের রাষ্ট্রে নাগরিকগণ সম্পদের মালিকানা ও ভােগের ক্ষেত্রে স্বাধীন। বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রই পুঁজিবাদী। 

সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র

সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র

সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলতে সেই ধরনের রাষ্ট্রকে বােঝায়, যা ব্যক্তিমালিকানা স্বীকার করে না। এতে উৎপাদনের উপকরণগুলাে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় থাকে। রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন ও বণ্টনের ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। এটি পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের বিপরীত। 

সমাজতন্ত্রে ব্যক্তিস্বাতন্ত্রকে স্বীকার করা হয় না। এ ধরনের রাষ্ট্রে একটিমাত্র দল থাকে। গণমাধ্যম রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে থাকে। বিরােধী মত প্রচারের সুযােগ থাকে না। যেমন- চীন এবং কিউবা সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এই ধরনের আরও পোষ্ট পেতে আমাদের poramorso24.com নিয়মিত ভিজিট করুন । ধর্যসহকারে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

আরও পড়ুন

  1. রাষ্ট্রের সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য এবং রাষ্ট্রের উৎপত্তি
  2. সন্ত্রাস কি এবং প্রতিরােধ ও প্রতিকারের উপায়
  3. সাম্য বলতে কি বোঝায়
  4. সার্ক কেন গঠিত হয়েছিল (SAARC)
  5. স্বাধীনতা বলতে কি বোঝায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *