সময় ব্যবস্থাপনার কৌশল

সময় ব্যবস্থাপনার কৌশল

সময় ব্যবস্থাপনার কৌশল: সব ধরনের কাজই কোনাে না কোনাে নিয়মের মাধ্যমে বা ব্যবস্থাপনার অধীনে বাস্তবায়িত হয়ে থাকে। এক বা একাধিক ব্যক্তি উদ্দেশ্যমূলক ও পরিকল্পিত যেকোনাে কাজ সম্পাদন করে। এই পরিকল্পিত তৎপরতাকে ব্যবস্থাপনা বলে । 

আর সময়ের পরিকল্পিত ব্যবহার হচ্ছে সময় ব্যবস্থাপনা। পরিকল্পিত কাজগুলােকে সময় অনুযায়ী ভাগ করে এবং বাস্তবায়ন করে সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাকে সময় ব্যবস্থাপনা বলে ।

সময় ব্যবস্থাপনার গুরত্বসময় ব্যবস্থাপনার কৌশল

সময় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সময়ের কাজ সময়ে শেষ করা সম্ভব হয়। কাজগুলােকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সময়ে ভাগ করে নিলে এবং সে অনুযায়ী বাস্তবায়ন করলে সময়মতাে কাজ সম্পন্ন হয়। পরিকল্পিত সময়ে পরিকল্পিত কাজ করার ফলে সময়ের অপচয় হয় না। সময় বিভাজন করে সে অনুযায়ী কাজ করলে দেখা যায় কাজগুলাে তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাচ্ছে । 

দ্রুত কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে বাড়তি সময়ে অন্য কাজ করার সুযােগ থাকে। ফলে দেখা যায় অল্প সময়ে অনেক কাজ সম্পন্ন হচ্ছে। সময় ব্যবস্থাপনায় যেহেতু পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রত্যেক কাজের জন্য সময় বরাদ্দ করা থাকে, তাই কাজের কোনাে অংশকেই জটিল মনে হয় না । সময় ব্যবস্থাপনার আর একটি সুবিধা হলাে এতে কোনাে কাজ জমে থাকে না ।

সময় ব্যবস্থাপনার মডেল 

বিখ্যাত লেখক পিটার ড্রাকার তার “The Effective Executive” গ্রন্থে সময় ব্যবস্থাপনা মডেলের তিনটি ধাপ উল্লেখ করেছেন

সময় বিশ্লেষণ

প্রত্যেককে তার নিজের কমপক্ষে এক সপ্তাহের সময়ের রেকর্ড রাখতে হবে এবং সময় বিশ্লেষণ করে কতটুকু সময় প্রকৃতপক্ষে কাজে লেগেছে আর কতটুকু সময় অপচয় হয়েছে তা আলাদা করতে হবে । এক্ষেত্রে সততার পরিচয় দিতে হবে। প্রয়ােজনে কাছের কাউকে সাথে রাখা যেতে পারে। 

নিরর্থক চাহিদা চিহ্নিতকরণ : 

সময় বিশ্লেষণের পর দেখা যাবে প্রতিদিন এমন অনেক কাজ করা হয়, যার কোনাে দরকার নেই এবং যা চাইলে বাদ দেওয়া যায়। এ ধরনের কাজগুলাে চিহ্নিত করে রাখতে হবে এবং পরবর্তীতে কাজের মধ্যে যাতে এগুলাে ঢুকতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে । 

কর্ম সম্পাদন : 

সময়ানুযায়ী কাজের পরিকল্পনা এবং হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে কাজগুলাে সম্পন্ন করতে হবে। পরিকল্পিত সময়ের মধ্যে কোনাে কাজে বিরতি বা ব্যাঘাত ঘটে এমন কোনাে কাজ করা যাবে না। মার্কিন গবেষক Stephen Covey তার সময় ব্যবস্থাপনার চার স্তর বিশিষ্ট মডেলের কথা উল্লেখ করেছেনযা ‘Covey’s Time Management Quadrant’ নামে পরিচিত। 

আরও পড়ুন: আত্মকর্মসংস্থান বলতে কী বুঝি

ক্যারিয়ার গঠনে সময় ব্যবস্থাপনার ভূমিকা 

সময় ব্যবস্থাপনা একজন শিক্ষার্থীর জীবনের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীর জীবনের গতিপথ পাল্টে যায়। সময়ের যথাযথ ব্যবহার তাকে ভবিষ্যৎ জীবনের দিকনির্দেশনা দেয়। সময়ের প্রতি যারা নিষ্ঠাবান তারা জীবনে অনেক দূর এগিয়ে যায়। 

ক্যারিয়ারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে লক্ষ্যে স্থির থাকা। সময় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সময়ের কাজ সময়ে করার অভ্যাসের কারণে একজন শিক্ষার্থী লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয় না। সময় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী তার ক্যারিয়ারে কোন কাজের পূর্বে কোনটিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে তা চিহ্নিত করতে পারে। 

ফলে সফলতার হার বেড়ে যায়। সময় ব্যবস্থাপনা আমাদের অন্যদের থেকে এগিয়ে রাখে। সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করার ফলে কাজের ক্ষেত্রে কখনাে পিছিয়ে পড়তে হয় না। সময়ের সদ্ব্যবহারের কারণে কাজ করার পর্যায়ে কোনাে ভুল হলে তা শােধরানাের সুযােগ থাকে। 

সময় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সময়ের সঠিক ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে সহজেই সফল ক্যারিয়ার গঠন করা যায়। মনে রাখতে হবে সময় ও নদীর স্রোত কারাে জন্য অপেক্ষা করে না।

আরও জানার জন্য: poramorso24.com এখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *