সমস্যা সমাধান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষমতা 

সমস্যা সমাধান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষমতা 

সমস্যা সমাধান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষমতা: চলার পথে মানুষকে নানা ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। কখনাে ব্যক্তিগত সমস্যা আবার কখনাে পারিবারিক সমস্যা। আছে সামাজিক সমস্যা আবার কখনাে কর্মক্ষেত্রে সমস্যা। কিন্তু তাই বলে সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে কিংবা সমস্যাকে দমিয়ে রেখে মানুষ কাজ করে না। 

প্রত্যেক সমস্যারই কোনাে না কোনাে সমাধান আছে। গ্রহণযােগ্য একটি উপায়ে তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার প্রক্রিয়াকে সমস্যা সমাধান বলে। যেকোনাে কাজ করার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মূলত প্রত্যেকটি কাজ শুরুই হয় সিদ্ধান্ত ও গ্রহণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। কেউ যদি কোনাে কাজ করব কি করব না, ভালাে হবে কি হবে না এই নিয়ে

দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভােগে তাহলে তাকে বলা হয় সিদ্ধান্তহীনতা। এ অবস্থা কাটিয়ে ভালাে-মন্দ বিবেচনায় রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। কোনাে কাজের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিবেচনায় রেখে সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করতে পারার ক্ষমতাই হলাে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষমতা ।

সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়া 

শুরুতেই যে সমস্যাটি সামনে এসেছে সে সমস্যাকে সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করতে হবে । সমস্যাটিকে বিভিন্ন আঙ্গিক থেকে ব্যাখ্যা করে করে সে সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নিতে হবে। এরপর সমস্যাটি কী কারণে হয়েছে এবং কোথা থেকে এই সমস্যার উৎপত্তি সে সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে হবে। 

সমস্যাটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্বস্ত ও নির্ভরযােগ্য সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা প্রয়ােজন। তথ্য সংগ্রহের পর তা বিশ্লেষণ করে সমস্যাটিকে একটি সমাধানযােগ্য প্রক্রিয়ায় আনতে হবে। 

যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের পর সেটির উপর ভিত্তি করে সম্ভাব্য কয়েকটি সমাধান বের করতে হবে। সমাধানগুলাের মধ্য হতে কার্যকর এবং সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত সমাধানটি গ্রহণ করতে হবে। সবশেষে গৃহীত সমাধানটি যথাযথভাবে কার্যকর কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। 

সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া

সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া যে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে প্রথমেই তা চিহ্নিত করা প্রয়ােজন। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। পূর্বে গৃহীত সিদ্ধান্তের পাশাপাশি কয়েকটি গ্রহণযােগ্য বিকল্প সিদ্ধান্ত তৈরি করে নিতে হবে। 

বিকল্প সিদ্ধান্তগুলাে অবশ্যই প্রথমে গৃহীত সিদ্ধান্তের আলােকে হতে হবে। বিকল্প সিদ্ধান্তসহ গৃহীত সিদ্ধান্তগুলাের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণাদি সংগ্রহ এবং এগুলাের ফলাফল কী হতে পারে সে সম্পর্কে পূর্বানুমান করে নিতে হবে। নিজের বিচার ক্ষমতা ও পর্যবেক্ষণের আলােকে এটা করতে হবে। এ পর্যায়ে সবার কাছে গ্রহণযােগ্য এবং ফলাফল | 

ইতিবাচক হয় এমন একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। এরপর গৃহীত সিদ্ধান্তটি যথাযথভাবে কার্যকর করতে হবে এবং প্রয়ােজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। সবশেষে গৃহীত সিদ্ধান্তটির ফলাফল মূল্যায়ন করতে হবে। যদি মনে হয় | অন্য সিদ্ধান্ত নিলে ভালাে হতাে তাহলে সিদ্ধান্ত। পুনর্বিবেচনা করে নতুন আরেকটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

ক্যারিয়ার গঠনে সমস্যা সমাধান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতার ভূমিকা

ক্যারিয়ার গঠনে সমস্যা সমাধান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিক্ষাজীবনে পছন্দের বিষয় ও প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এ ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর ক্যারিয়ার গঠন নির্ভর করে। 

আবার শিক্ষাজীবন শেষ করার পর কর্মজীবনে প্রবেশের পূর্বে প্রত্যেককে সিদ্ধান্ত নিতে হয় যে, কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানে কোন ধরনের কাজে সে নিয়ােজিত হবে। এ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের ওপর তার ক্যারিয়ার গঠিত হয়। তাই সঠিক ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে সমস্যা সমাধান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যথাযথ ক্যারিয়ার গঠন করা যায়।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *